ভারতের জাতীয় যোগ্যতাভিত্তিক পরীক্ষা বা নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলন চললেও দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) নেতৃত্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে। তবে সরকারের শীর্ষ মহল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশেই রয়েছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগ করাটাই সবচেয়ে সহজ পথ। তবে জনগণ আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, আমরা তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাব। ইতোমধ্যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-এর ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলোর দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত বহু চক্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পদত্যাগের দাবির মুখেও দমে না থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পবিত্র ‘বাহুদা যাত্রা’র শুভেচ্ছা জানানো, এক প্রবীণ সাংবাদিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশ্নফাঁস বিরোধী কঠোর বার্তার ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। পাশাপাশি গত ২২ জুলাই বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীদের নিয়ে আয়োজিত দুদিনের সম্মেলনেও অংশ নেন তিনি।
এদিকে, শুক্রবার কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিজেপির দ্বিতীয় দফার রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের পক্ষে এতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং। সিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠক শেষে সিজেপির প্রতিনিধি আশুতোষ রাঙ্কা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তবে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা ও এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিতে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে সরকার।
এর আগে শুক্রবার সকালে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক মন্তব্য করেছিলেন যে, এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়ার পর টানা ২৬ দিনের অনশন ভঙ্গ করেছেন প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ প্রশমিত করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

