হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্ক ছড়িয়ে পড়লে জাহিদুল তাঁর পোস্টটি সরিয়ে নেন, তবে তাতেও আলোচনার রেশ কাটেনি।
গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর বুধবার হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ করতে গিয়ে এনসিপি নেতা-কর্মীরা পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সিলেটে এনসিপির নেতা-কর্মীদের বহনকারী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার জন্য এনসিপি সরাসরি বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে জাহিদুল ইসলাম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। তাঁর দাবি, এর উদ্দেশ্য হলো জুলাই মাসে জামায়াতকে আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন তৈরি করা। পোস্টটিতে তিনি ‘গুড প্ল্যান, গুড মুভ’ বলেও মন্তব্য করেন। জাহিদুলের এই পোস্টের সমর্থনে জামায়াতপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের বক্তব্য প্রচার করা হয়।
এমন একটি পোস্টে হাসান মো. মেহেদী নামের এক ব্যক্তি দাবি করেন, ‘পাতানো খেলায় নিরীহ আলিফের চোখ বলি হলো!’ তিনি মূলত মঙ্গলবারের হামলায় গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক আলিফ চৌধুরীর প্রতি ইঙ্গিত করেন।
তবে শিবিরের সাবেক সভাপতির এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে এনসিপির নেতা-কর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের একটি ফেসবুক পোস্ট এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তিনি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ৬০ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। মনিরা শারমিন আরও বলেন, এনসিপির রাজনীতি দাঁড়িয়ে গেলে কারও কারও অসুবিধা হওয়া স্বাভাবিক এবং নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অন্যকে সন্দেহের চোখে দেখা এক ধরণের অসুখ।
শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মনিরা শারমিনের ওই পোস্টে প্রায় সাড়ে নয় হাজার প্রতিক্রিয়া ও ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মন্তব্য জমা পড়ে। এছাড়া আরও অনেক এনসিপি নেতা জাহিদুল ইসলামের পোস্টের সমালোচনা করেছেন। তীব্র সমালোচনার মুখে জাহিদুল ইসলাম তাঁর পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন, যা নিয়ে এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
(ডিপ পাওয়ার)।’জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত দল এনসিপি।
তিনি তাঁর পোস্টে জামায়াত থেকে সম্প্রতি বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টানেন।

