সংস্কার ও জনস্বার্থের দাবিতে রাজপথে ১১ দলীয় জোট

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে বর্তমান সরকারকে চাপে রাখতে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। জোট নেতারা জানিয়েছেন, তারা সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও তাদের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে জোটটি তাদের আন্দোলনের সূচনা করেছে।

জোটের পক্ষ থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখাসহ জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। এই দাবি আদায়ে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ১৯শে সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ই অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে যশোর-কুষ্টিয়া এবং ২৪শে অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে রেলপথ যাত্রা ও লংমার্চ করবে জোটটি। সবশেষে ১৪ই নভেম্বর ঢাকায় একটি জাতীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিএনপি সংস্কার বাস্তবায়নের কথা বললেও তা দৃশ্যমান নয়। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটে গণভোট ও সংস্কারের বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে, যা বাস্তবায়ন না করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর না হলে রাষ্ট্র ও সরকার পুনরায় ফ্যাসিবাদী হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে, যা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ফোকাস করে সরকারকে চাপে রাখাই তাদের লক্ষ্য। সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে কাজ করছে, তাই এই কমিটিতে তাদের থাকার কোনো কারণ নেই।