নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভায় অবস্থিত রাবেয়া হাসপাতালের পাশের একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পরিচালিত এই অভিযানে পর্নো ভিডিও তৈরির অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, তাদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং আব্দুর রহিম। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায় এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া চার তরুণীর একজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ গোপনে ফোন করে সাহায্য চাইলে অভিযানটি পরিচালিত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণের ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি চাবুক, ছুরি, কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া চার তরুণীর মধ্যে এক তরুণী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, এক বান্ধবীর মাধ্যমে সালাউদ্দিন বিপ্লবের সাথে পরিচয়ের পর পার্লারে চাকরির আশ্বাস পেয়ে ২ আগস্ট চৌমুহনীতে আসেন ওই তরুণী। এরপর তাকে একটি বাসায় নিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করা হতো এবং তার পর্নো ভিডিও ধারণ করে অনলাইনের একটি অ্যাপের মাধ্যমে সম্প্রচার করে অর্থ উপার্জন করা হতো। এছাড়া বাসায় আটকে রাখা অন্য তরুণীদের প্রতিবাদ করলে শারীরিক নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত তরুণীরা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫: ৩৬আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫: ৩৭

