কাঠামোগত সংস্কার না হলে বর্তমান সরকারও স্বৈরাচারী হবে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা না গেলে বর্তমান সরকারও স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সরকারের কর্মকাণ্ডে ইতোমধ্যেই সেই প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও কাঠামোর পরিবর্তন না করলে কোনো সরকারই স্বৈরাচারী হওয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র প্রধানের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে দেশ পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। প্রদর্শনীটি ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শিরোনামে আয়োজিত হয়েছে, যা ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের ঘাত-প্রতিঘাত ও স্বৈরতন্ত্র অতিক্রমের ইতিহাস তুলে ধরেছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার, যার জন্য জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই গণরায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, সরকার সারাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপনের নামে ইতিহাস বিকৃতি ও দলীয়করণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী পর্যন্ত দলীয়করণের মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগের মতোই আচরণ করছে। এছাড়া, বিভিন্ন জেলায় সরকারি অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও তাদের ওপর হামলাও চালানো হয়েছে।

পতিত স্বৈরাচারী শক্তির বিষয়ে সরকারের আপোষকামী নীতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্ট দিল্লিতে বসে পতিত স্বৈরাচারী শক্তি প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ পেয়েছে, যা সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতারই প্রমাণ। তিনি বলেন, ভারত সরকার তাদের সহযোগিতা করছে জেনেও বর্তমান সরকার কোনো কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়নি। ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে নিন্দা জানানোর পরিবর্তে সরকার কেবল প্রেস রিলিজ দিয়ে বাগাড়ম্বর করছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে জনগণের আস্থা হারিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৬ বছরের মতো বর্তমান সরকারও এখন ক্ষমতার দাপট ও সন্ত্রাসের ওপর ভর করে টিকে থাকতে চাইছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রনেতাদের ওপর আক্রমণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।