গণতন্ত্র সুসংহত করতে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা জরুরি: ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র কোনোভাবেই কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক সংস্কৃতি। টেকসই গণতন্ত্র নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি সহনশীলতা প্রদর্শন, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং শক্তিশালী গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়; বরং গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে না পারলে গণতন্ত্রও দুর্বল থেকে যাবে। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের দায়িত্ব সম্পর্কে বলেন, সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সাংবাদিকদের কোনো ধরনের সেল্ফ সেন্সরশিপ বা আত্মনিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে এসে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

সবশেষে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে পারলে গণমাধ্যম তার ভূমিকা আরও কার্যকরভাবে পালন করতে পারবে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমেই গণমাধ্যম জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে এবং গণতন্ত্রকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।