ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর নিয়ে রাজ্যসভায় খরচের তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরে মোট ব্যয় হয়েছে ৫৫৭ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮ রুপি ৫৬ পয়সা। গত বছর বিদেশ সফরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছিল ফেব্রুয়ারির ফ্রান্স সফরে, যার পরিমাণ ছিল ২৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮২ হাজার ৯০২ রুপি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোদির বিদেশ সফরের পেছনে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি রুপি। নির্দিষ্ট করে বললে, এই সাত মাসে ব্যয় হয়েছে ৭৪ কোটি ৫৮ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৭ রুপি। এই সময়ের মধ্যে তিনি মালয়েশিয়া, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ইতালি, ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, সিশেলস, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ মোট ১৩টি দেশে সফর করেছেন।
চলতি বছরের বিদেশ সফরের ব্যয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে সফর। এই এক সফরে খরচ হয়েছে ১৭ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯০ রুপি। এরপরেই রয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের ইসরায়েল সফর, যেখানে ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৮ রুপি। রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিং ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সাংসদ ভি শিবদাসনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হিসাবগুলো প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে মুদ্রাস্ফীতি বা বিনিময় হারের পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পাশাপাশি অতীতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলের কিছু সফরের খরচের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরে ১০ কোটি ৭৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৩ রুপি এবং একই বছর ফ্রান্স সফরে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৩ রুপি ব্যয় হয়েছিল। এছাড়া ২০১৩ সালে রাশিয়া সফরে ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০ রুপি এবং জার্মানি সফরে ৬ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮৪ রুপি খরচ হয়েছিল।
মোদির বিদেশ সফরের কর্মসূচিতে সাধারণত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভা থাকে। এসব সফরে তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ স্কোয়াড্রন পরিচালিত ‘এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান’ উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের নিরাপত্তা সদস্যরা থাকেন।

