ইরানের সংঘাতের ফাঁদে ট্রাম্প: স্থলবাহিনী মোতায়েন ছাড়া বিকল্প নেই

বিমান ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা দিয়ে ইরানকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত এবার স্থলবাহিনী মোতায়েনের পথে হাঁটবেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ‘এসক্যালেশন ট্র্যাপ’ সাবস্ট্যাকের লেখক রবার্ট পেপ এমনটাই মনে করেন।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রবার্ট পেপ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হয়তো স্থল অভিযান শুরু করবেন না। তবে তিনি এরই মধ্যে বিমান হামলার সীমাবদ্ধতা অনুধাবন করতে পেরেছেন এবং তাকে প্রতিদিন এ বিষয়ে নিয়মিত তথ্য জানানো হচ্ছে।

এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, নৌবাহিনীর সীমাবদ্ধতাও ট্রাম্পের নজরে এসেছে। তাই তার হাতে এখন কেবল একটি বাহিনীই অবশিষ্ট আছে, আর তা হলো স্থলবাহিনী। পেপ মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে পারে, তবে ট্রাম্পের সামনে এখন সংঘাত আরও বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

এই পরিস্থিতিকে ‘সংঘাত বিস্তারের ফাঁদ’ বা ‘এসক্যালেশন ট্র্যাপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে রবার্ট পেপ আরও বলেন, এটাই সেই ফাঁদ—যেখানে তাকে হয় স্থল অভিযানের পথ বেছে নিতে হবে, নতুবা হার মানতে হবে। ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত হার মানেন, তবে ইরান বিশ্বশক্তির চতুর্থ কেন্দ্রে পরিণত হবে। এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এক চরম পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে ইতিহাসে তার ভাবমূর্তি পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। ১০ জন বিশেষজ্ঞের মতে, এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় ঝুঁকি।