ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ৫৮ সেনাসদস্য নিহত

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৫৮ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই সামরিক অভিযানকে গত চার বছরের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫৮ জন হলেও আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন সেনা। এর আগে চিকিৎসা সূত্রগুলো প্রাথমিকভাবে ৩৮ জন নিহতের তথ্য দিয়েছিল।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, সৌদি আরবের সহায়তায় সরকারি বাহিনী তাদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যার জবাব দিতেই বিদ্রোহীরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সরকারি অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলের মারিব প্রদেশের আল-রুওয়াইক এলাকায় একটি সেনা শিবিরে সকালের কুচকাওয়াজ চলাকালে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এছাড়া সৌদি সীমান্তসংলগ্ন হাদরামাউতের আল-আবর ও আল-ওয়াদিয়াহ এলাকার সেনা শিবিরগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী ‘যথা সময়ে’ এসব হামলার জবাব দেবে। এদিকে সংঘাতের রেশ সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবেও পৌঁছেছে। সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান অঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, আহতদের মধ্যে সাতজন সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি রয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে একটি সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে গত মাস থেকে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি গত মাসে ইরান-সমর্থিত হুথিরা ভেঙে দিলে দেশটিতে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর আগে গত মাসে লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদেইদাহ বন্দরের দক্ষিণে সরকারপন্থী বাহিনীর ওপর হুথিদের হামলায় ১৬ জন সেনা নিহত হয়েছিল। ২০১৪ সাল থেকে চলা এই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশটিতে বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক সংকট বিরাজ করছে। হুথিরা বর্তমানে রাজধানী সানা এবং উত্তর ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।