বিশ্বজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননার দাবি জামায়াত আমিরের

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ১৭। মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনকারী বাংলাদেশি হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজের সরকারি বাসভবনে বিজয়ীদের সংবর্ধনা প্রদান শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই দাবি জানান। তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্বজয়ী এই হাফেজদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিলে দেশ নিজেই সম্মানিত হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সফল ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হলেও কোরআনের হাফেজদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা দুঃখজনক। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করেছেন উল্লেখ করে জামায়াত আমির আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার অচিরেই এই দাবির প্রতি সাড়া দেবে। তিনি শুধু সংবর্ধনা নয়, বরং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের সম্মানিত করার আহ্বান জানান।

এ বছরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী চারজন বাংলাদেশি প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হওয়াকে তিনি দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নৈতিক নাগরিক গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কোরআন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যথাযথ সহযোগিতা প্রদান সরকারের দায়িত্ব। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং তাদের ন্যায্য অধিকার। এছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষায় যুক্ত হওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী শিক্ষার বিকাশ ছাড়া একটি ভালো দেশ গড়া সম্ভব নয়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অতীতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরা সকল হাফেজদের জন্য সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।