প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ১৭। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জনগণের ভোটে দেওয়া গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার সাতমাথার খোকন পার্কে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মামুন রাহমানী।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, একই নির্বাচন কমিশন, একই তফসিল এবং একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাই একটি নির্বাচনকে বৈধ দাবি করে অন্যটিকে অবৈধ বলার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য শুধু রাজনৈতিক দায় নয়, বরং সরকারের বৈধতার স্বার্থেও তা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ক্ষমতায় যাওয়ার পর গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করার যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সরকারের উচিত এখনো সময় থাকতে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখানো।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দুর্বল কোনো সংশোধন চাই না; এমন সংস্কার চাই যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর ও স্থায়ী হবে। কারণ, সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন শুধু সংশোধনের মাধ্যমে করলে তা পরবর্তী সরকার পরিবর্তন করে দিতে পারে।
আলেম-ওলামাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে ইসলামী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে হবে। ইসলামপন্থীদের মধ্যে বিভেদ তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক পক্ষকে আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিলে ইসলামপন্থীদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রউফ, কেন্দ্রীয় যুব মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোশাররফ হুসাইন লাবীব এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র মজলিসের সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল আহাদ। এছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

