ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনটি রাজনৈতিক দলের মেয়র পদের প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী কৌশল অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। নির্বাচনটি নির্দলীয় হওয়ায় ব্যালটে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না, ফলে প্রার্থী বাছাই ও সমর্থন প্রদানের বিষয়টি ভোটের মাঠে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত রোববার ঢাকা উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং দক্ষিণ সিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেন। এনসিপির এই প্রার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সম্মুখসারির মুখ। আসিফ মাহমুদ প্রথমবারের মতো নির্বাচনী রাজনীতিতে নামছেন, অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাঁরা ইতিমধ্যে আসিফ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ও পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও তাদের পছন্দের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। বিএনপি উত্তর সিটিতে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণ সিটিতে মো. আবদুস সালামকে প্রার্থী হিসেবে রাখছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাঁদের দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই তাঁদের সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি নেতা ও বর্তমান প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, তিনি নাগরিক সেবার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। দলের উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে জরিপসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে। বিএনপি কোনো দলীয় মনোনয়ন না দিলেও তৃণমূলকে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করার নির্দেশনা দিয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা–১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের আমির মো. এবং ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন।
জামায়াতে ইসলামীও তাদের পছন্দের প্রার্থী প্রায় নিশ্চিত করেছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উত্তর সিটিতে দলটির সমর্থন থাকবে মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের প্রতি, যিনি এর আগে সিলেট–৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। দক্ষিণ সিটিতে সমর্থন দেওয়া হবে ডাকসুর সাবেক ভিপি মো. আবু সাদিক বা সাদিক কায়েমের প্রতি। সেলিম উদ্দিন ইতিমধ্যে সাংগঠনিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাদিক কায়েম বর্তমানে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে ঘরোয়া কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সংগঠন এবং নতুন রাজনৈতিক পরিচিতির মধ্যে একটি বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। এনসিপি নতুন মুখকে সামনে আনলেও বিএনপি ও জামায়াত তাদের অভিজ্ঞ ও পরিচিত নেতাদের ওপরই আস্থা রাখছে। নির্বাচন কমিশন নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা এই তিন শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

