রাজনীতি নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান সমবায় মন্ত্রীর

রাজনৈতিক বিতর্কে লিপ্ত না হয়ে গবেষণা, নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সুফল সরাসরি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এর মাধ্যমেই কেবল কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা যাবে।

শনিবার বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-তে আয়োজিত ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শুরুর আগে তিনি আরডিএ-র উদ্ভাবন করা সবুজ প্রযুক্তি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং একাডেমি চত্বরে একটি লটকন গাছের চারা রোপণ করেন।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা ও বিতর্ক হলেও গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে চমৎকার সব সাফল্য আসছে, তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন বা প্রচার করা হয় না। অথচ বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ ধরনের ইতিবাচক সাফল্যগুলো সাধারণ মানুষের সামনে আরও বেশি করে তুলে ধরার জন্য তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।

কৃষকদের বর্তমান সমস্যা ও সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের দেশের কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা উৎপাদন করা নয়, বরং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত করা। এই সংকট দূর করতে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপন, খাদ্য সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে আরও বেশি গবেষণা প্রয়োজন। একই সাথে এই খাতগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।

দেশের তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এতে একদিকে যেমন দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে কৃষকরাও লাভবান হবেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।