২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিন দুপুরে লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আবেদনটি মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের এই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে গত বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর গুলশানে তার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে, গত ২৭ জুলাই এই মামলায় প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ১০ জনকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়। বর্তমানে এই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ মোট আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। এছাড়া অন্য মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা হাসানুল হক ইনু ও আবদুর রাজ্জাকও এই মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন। মামলার বাকি আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মূলত দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন অর্থাৎ ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রাশেদুল ইসলাম ও আবু ইউসুফসহ বহু মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব ঘটনা গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়নসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।

