যুগান্তরের সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল অনিবার্য। তার মতে, জুলাইয়ের রক্তে মিশে আছে পলাশীর হাহাকার, বরকত-রফিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদের আত্মত্যাগের ব্যঞ্জনা। একই সঙ্গে এতে মিশে আছে শহীদ জিয়ার রক্ত ও দেশপ্রেমের আদর্শ। তিনি বলেন, জুলাই অজর ও অমর, যা হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছে।
বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে আবদুল হাই শিকদার বলেন, জুলাইয়ের ডাক ছিল—‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তুমিই বাংলাদেশ।’ এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্র-জনতা জেগে উঠেছিল। তিনি আবু সাঈদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, এমন বীরের নজির এক হাজার বছরের ইতিহাসে বিরল। ৩৬ দিনের এই লড়াইয়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই শিকদার আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জিয়ার কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। তিনি ১৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন এবং ১৬ ডিসেম্বরের অসম্পূর্ণ স্বাধীনতা ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ণতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
জুলাই পরবর্তী পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ভারতীয় প্রভাব ও আগ্রাসন বিদ্যমান, যার মূল কারণ জাতীয় বিভেদ। যারা জুলাইয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে, তাদের বর্তমান দূরত্ব আধিপত্যবাদের পথ প্রশস্ত করছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাসমত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইআইইউসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রক্টর প্রফেসর মোস্তফা মনির চৌধুরী। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ কাশেম ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কাউসার আহমেদ। কবিতা আবৃত্তি করেন আইআইইউসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মোস্তাক খন্দকার।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি চত্বর থেকে একটি বিজয় র্যালি বের করা হয়। আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সবশেষে জুলাই স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন এবং দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

