ফ্যাসিবাদী শাসনের রেখে যাওয়া জঞ্জাল আর ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো সামলে ছয় মাস পার করেছে বিএনপি সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনকল্যাণে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষমতাসীন দলটি। সরকারের দাবি, ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্র এখন পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে রয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন সরকারের গত ছয় মাসের সার্বিক কার্যক্রম, অর্জন এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর থেকে সরকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’, বিএনপির ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতা এবং দেশজুড়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এ ছাড়া প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক ও শিক্ষাখাতে সংস্কারের বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, সংসদে রেকর্ডসংখ্যক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগসহ ক্রীড়া ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকায় ২০০টি ইলেকট্রিক বাস এবং এআই ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান কঠিন, তবে সরকারের আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার কোনো অভাব নেই।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। তিনি বলেন, সংস্কার কার্যক্রমকে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। জ্বালানি ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগের জন্য সরকার দুঃখিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া বিদেশে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য কূটনৈতিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিগত সরকারের আমলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান লোপাট ও মেগা দুর্নীতির উত্তরাধিকারের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডারদের সাথে বৈঠক প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই একটি ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে। অনুষ্ঠানে ইসমাইল জবিউল্লাহ দেশে ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

