রাতভর ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আবারো জলাবদ্ধতায় ডুবেছে চট্টগ্রাম নগরী। রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণ সোমবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাতে পানি বাড়তে শুরু করলে অনেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি। ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান জানান, দ্রুত পানি বৃদ্ধির ফলে নিচতলায় থাকা অনেক পণ্য সরানো সম্ভব হয়নি। এতে কাপড়, জুতা, ব্যাগ, প্রসাধনী ও ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়েছে। ব্যবসায়ী সীরাত মুস্তাফা জানান, প্রতিবছর জলাবদ্ধতায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রিয়াজ উদ্দিন বাজার তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতির মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, সমিতির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে।
নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার ছাড়াও কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, জামালখান, চকবাজার, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, বাকলিয়া, রাহাত্তারপুল, ফরিদারপাড়া, উত্তর কাট্টলী ও দক্ষিণ নালাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ফারহান জানান, ভবনের নিচতলার পার্কিংয়ে হাঁটুসমান পানি জমেছে এবং বাইরে সড়কে কোমরসমান পানি থাকায় কর্মস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার কলেজশিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান, প্রতিবার ভারী বৃষ্টিতেই এলাকায় পানি জমে, এবারও তিনি কলেজে যেতে পারেননি এবং তার সন্তানকেও স্কুলে পাঠাতে পারেননি। দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসিন্দা শিপ্রা দত্ত কোমরসমান পানি মাড়িয়ে অফিসে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং রিকশাভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গুনতে হয়েছে তাকে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে প্রায় ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, হিজড়া খালের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না, ফলে ভারী বৃষ্টি হলেই নগরবাসীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রাতভর ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আবারো জলাবদ্ধতায় ডুবেছে চট্টগ্রাম নগরী। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে পৃষ্ঠা ২০ কলাম ৪যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। রোববার রাত থেকে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার সকালেও তা অব্যাহত ছিল। এতে নগরের নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়।
দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসিন্দা শিপ্রা দত্ত বলেন, কোমরসমান পানি পেরিয়ে তাকে অফিসে যেতে হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে রিকশাভাড়াও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে বাসা থেকে নিউমার্কেট মোড় পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া লাগলেও সোমবার তাকে ১৫০ টাকা দিতে হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা প

