দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র: সেবা ও উন্নয়নের চার দশক

দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধান ডা. দিবালোক সিংহের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের অন্যতম মানবিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ১৯৮৮ সালে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় সীমিত পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারী উন্নয়ন, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা, কৃষি উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অসংখ্য পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবদান উল্লেখযোগ্য। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) দুর্গাপুর উপজেলার সভাপতি অজয় সাহা জানান, মানবসেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই অবদান ভবিষ্যতেও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং দেশের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করবে।

সর্বশেষ গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকায় ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাজেট বিষয়ক বিশেষ সাধারণ সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৫,০১৯.৯১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসকের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার। সভায় সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. তাইবুল হাসান খান, মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. গোলাম মরতুজা, কোষাধ্যক্ষ হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. আব্দুল্লাহসহ সাধারণ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুমোদিত এই বাজেটের আওতায় ডিএসকে দেশের ২৯টি জেলায় দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, আদিবাসী, হাওর, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (WASH), ক্ষুদ্র অর্থায়ন, দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধসহ বহুমুখী কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১৯৮৮ সাল থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দারিদ্র্যমুক্ত, স্বনির্ভর ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ডিএসকে কাজ করে যাচ্ছে। ৫,০১৯.৯১ কোটি টাকার এই বাজেট অনুমোদন ডিএসকের উন্নয়ন অভিযাত্রায় একটি নতুন মাইলফলক, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সংগঠনটির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন।