আজিজ আহমেদকে ফেরাতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের উদ্যোগ ট্রাইব্যুনালের

২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি পাঠিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের এই মামলায় পলাতক কোনো আসামিকে ইন্টারপোলের সাহায্যে দেশে ফিরিয়ে আনার এটিই প্রথম উদ্যোগ। তারা জানতে পেরেছেন যে সাবেক এই সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে আছেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া ক্রমান্বয়ে এই মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত ১৭ই আগস্ট পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন আইসিটি কেস- ৫/২৬ মামলায় আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত শুরুর পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন এবং গত ২৭শে আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। চিফ প্রসিকিউটর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তদন্ত সংস্থা আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সপক্ষে 'যুক্তিসংগতভাবে বিশ্বাসযোগ্য' প্রমাণ পেয়েছে। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৫ই মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের পর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম অভিযোগ অনুসারে, ওই দিন রাত ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাতের অন্ধকারে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র কর্মীরা যৌথ অভিযান চালায়। এই অভিযানে ৩২ জন নিহত এবং চারজন নিখোঁজ হন বলে প্রসিকিউশনের চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ৬ই মে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মাদানীনগরে সমাবেশ থেকে চলে যাওয়া লোকজনের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে ২০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। প্রসিকিউশনের দাবি, তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বসে অভিযানের অপারেশনাল পরিকল্পনা তৈরিতে অংশ নেন এবং তার নির্দেশেই বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তার ঘোষণা অনুযায়ী সেখানে ৩২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। আজিজ আহমেদসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের অধীনে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।