পাটুরিয়া ঘাটে থামছে না অবৈধ বালু বাণিজ্য, হুমকিতে টার্মিনাল ও নৌবন্দর

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাটে থামেনি অবৈধ বালু ও মাটির ব্যবসা। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নদীর পাড়ঘেঁষে অবাধে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটটি। যেকোনো মুহূর্তে ঘাটটি নদীতে বিলীন হয়ে ঢাকা ও洍ক্ষিণাঞ্চলের মধ্যকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অথচ এই বিপর্যয় রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকা এবং বিআইডব্লিউটিএর ফোরসোর জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অবৈধ বালু বাণিজ্য। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এই সিন্ডিকেট চললেও, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর কেবল হাত বদল হয়েছে। বর্তমান স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় আগের বালুচক্রের সদস্যরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাতের অন্ধকারে পদ্মা নদীতে ড্রেজার বা কাটার বসিয়ে বাল্কহেডের মাধ্যমে ফোরসোর জায়গা দখল করে বালু ও মাটি এনে ঘাটের পাশে স্তূপ করা হচ্ছে। স্থানীয় পোর্ট অফিসারকে ম্যানেজ করে এই সিন্ডিকেট কোটি টাকার বাণিজ্য করলেও সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।

সরেজমিনে পাটুরিয়া ঘাট ও অন্যান্য এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাটুরিয়া ফেরিঘাটের আশপাশে বিআইডব্লিউটিএর ফোরসোর জায়গায় অন্তত ৫টি স্থানে অবৈধ বালুর চাতাল রয়েছে। নদীর তীরে এসব জায়গা থেকে বালু-মাটি কেটে নেওয়ার ধুম পড়েছে। সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ভেকু মেশিনের সাহায্যে সারারাত নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু-মাটি কেটে ১০ চাকার ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মিন্টু কাজী জানান, নদী ও নদীর তীর থেকে বালু-মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও কেউ তা মানছে না। যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু এনে এই চাতালগুলোতে রাখা হয়। এই অবৈধ ব্যবসার কারণে পাটুরিয়া ঘাটে যাওয়ার বিকল্প রাস্তাটি ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে। শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই অবৈধ ব্যবসা সম্পূর্ণ ওপেন সিক্রেট। বালুবাহী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে ইউনিয়নের রাস্তাটি ভেঙে যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বারবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

অবৈধভাবে বালু কাটার কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে পাটুরিয়া ফেরিঘাট ও নদীবন্দর নদীভাঙনের মুখে পড়েছে এবং ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই গত ১৫ আগস্ট হঠাৎ পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে আসেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এটিএম আব্দুল বারী ড্যানি। তবে এই সফরকে রুটিন পরিদর্শন বলে দাবি করেছেন বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আব্দুস সালাম।

এ বিষয়ে আরিচা ও পাটুরিয়া নদীবন্দরের কর্মকর্তা সুব্রত রায় জানান, ফোরসোর জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ বালুর চাতালগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং দ্রুতই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। অন্যদিকে, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানি কর্মকার জানান, অবৈধ মাটি ও বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।