জার্মানির বার্লিনে প্রাইড উৎসবের কাছে মিনিভ্যান ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো সন্দেহভাজন তরুণ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। আব্দুল বি (২১) নামের ওই লেবানিজ বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিককে রোববার বার্লিনের স্পানদাউ এলাকা থেকে শনাক্ত করার পর পুলিশ গুলি চালায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে ব্রান্ডেনবার্গ গেটের কাছের তিয়ারগার্টেন পার্কে বার্ষিক ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ প্রাইড উৎসবের কাছে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। হামলাকারী প্রথমে একটি মিনিভ্যান নিয়ে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মানুষের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় একজন নিহত এবং ২৯ জন গুরুতর আহত হন।
হামলার পরদিনই রোববার বিকেলে বার্লিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় স্পানদাউ এলাকার একটি বাগান বাড়ি কমপ্লেক্সে সন্দেহভাজন আব্দুল বি-কে শনাক্ত করে পুলিশ। সে সময় সে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের দিকে তেড়ে আসলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার দোব্রিন্ড জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে জার্মানিতে জন্মগ্রহণকারী এই যুবক পূর্বেও একাধিক অপরাধে জড়িত ছিল। দ্রুত উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং ইসলামপন্থী উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততার কারণে সে আগে থেকেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরদারিতে ছিল। মারাত্মক সহিংসতা ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা ভোগের পর মাত্র দুই মাস আগেই সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিল।
এই হামলার পর জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎস সেন্ট মেরিজ চার্চে এক স্মারক সভায় যোগ দেন। সেখান থেকে তিনি দেশবাসীকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জার্মানি তার স্বাধীনতা, উন্মুক্ততা ও উদার সমাজব্যবস্থা বজায় রাখতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবে। এদিকে হামলার প্রতিবাদে ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটে হাজার হাজার মানুষ মোমবাতি ও রংধনু পতাকা নিয়ে জড়ো হয়ে শোক প্রকাশ করেন।
আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ার মুখে এই ঘটনা চ্যান্সেলর মের্ৎসের সরকারের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি উগ্র ডানপন্থী দল ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) দেশে ধর্মীয় চরমপন্থা নির্মূলে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে।

