বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আধুনিক বাংলাদেশের জনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জেটেব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন একজন দেশপ্রেমিক, যার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন। দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। যার কারণে আজ বাংলাদেশকে আধুনিক বাংলাদেশের জনক হিসেবে শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়। সে সময়ের এমন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে তিনি তার হাতের ছোঁয়া রেখে যাননি।
তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ যাতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার দায়িত্ব সবার। যারা পালিয়ে গেছে তারা বসে নেই, তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা আশপাশেই আছে। যারা ষড়যন্ত্র করে ২০০৯ সালের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদেরও অনেক কষ্ট হচ্ছে, কারণ জনগণ তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। যেখানে সুশাসন থাকবে, অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের কোনো সুযোগ থাকবে না। এমন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারলে শত শহীদ ও গুমের যাতনা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে। তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জুলাই শহীদ, পঙ্গুত্ববরণকারী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য একটি অধিদপ্তর করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমাদ আজম খানকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে জুলাই-আগস্টের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নিশ্চিত করা হয়।
তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে দিয়ে গুমের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তাতে শত শত নেতাকর্মী হারিয়েছেন। অনেকে জীবিত না মৃত তা পরিবার জানে না। জিয়াউর রহমানের শাসনামলের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশ যখন অন্ধকার অমানিশার দিকে যাচ্ছিল, তখন তিনি হাল ধরেছিলেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তার ঘোষণার ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তখন বিএনপি না থাকলেও সিপাহী-জনতার আস্থা ছিল জিয়াউর রহমানের প্রতি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারা দেশ ঘুরে দলকে জনগণের দলে পরিণত করেছিলেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পরও মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছিল। ১৯৯১ সালের অবাধ নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসায় বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে মিলে ১৭৪ দিন আন্দোলন ও হরতাল করেছিলেন, কিন্তু বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দায়িত্ব পালন করেছিল।
তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা ষড়যন্ত্র করে একটি দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। তখন ভোটকেন্দ্রে ভোটার না থাকলেও নির্বাচন হয়ে যেত, দিনের ভোট রাতে হতো। সাগর-রুনি হত্যার বিচার আজও হয়নি, চার্জশিটও দেওয়া হয়নি, ১২০ বারের বেশি মামলার তারিখ পিছিয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও প্রার্থী পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা না থাকলে প্রশাসন বা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় থাকা যায় না, যা শেষ পর্যন্ত কাচের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। জেটেবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনটির নেতাকর্মী ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা না থাকলে ক্ষমতায় থাকাও অনিশ্চিত হয়ে যায়, জীবন রক্ষাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি, বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আটক রাখা হয়েছিল। কিন্তু, আল্লাহর মেহেরবানিতে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করার পর সারা দেশের মানুষ তার কফিনের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

