শরণখোলায় প্রাইভেট ক্লিনিকের বাথরুম থেকে নার্সের মরদেহ উদ্ধার

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতাল (প্রাইভেট) থেকে রিক্তা আক্তার ওরফে হাসিনা বেগম (৩৪) নামের এক নার্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৩ জুলাই ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালের বাথরুম থেকে পুলিশ ও সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন।

নিহত রিক্তা আক্তার উপজেলার উত্তরবাড়ি গ্রামের জসীমউদ্দীনের স্ত্রী। তিনি গত ৩ জুলাই ওই হাসপাতালে নার্স হিসেবে যোগদান করেছিলেন এবং রাতে ডিউটি করতেন। নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন জানান, ২২ জুলাই রাত সাড়ে সাতটার দিকে তার স্ত্রী শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও বাড়ি থেকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।

হাসপাতালের পরিচালক আলীম আল রাজি মুক্তি জানান, রাতে ডিউটি চলাকালীন রাত ১টা ৫৭ মিনিটের দিকে রিক্তা আক্তার বাথরুমে যান। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বের না হওয়ায় সহকর্মীরা তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তারা বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাথরুমের দরজা ভেঙে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাথরুমের ভেতর থেকে একটি প্যাথেডিন ইনজেকশনের সিরিঞ্জ পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই ব্যবহার করা হয়েছিল। নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন জানান, তার স্ত্রীর হার্টের সমস্যা ছিল এবং তিনি প্রায়ই ব্যথা ও ঘুমের জন্য ইনজেকশন ও ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করতেন। একজন অভিজ্ঞ মেডিকেল অফিসারের মতে, প্যাথেডিন ইনজেকশন ঘুমের কাজ করলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার যেকোনো ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম জানান, প্রাথমিক তদন্তে রিক্তা আক্তারের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে যেখানে প্যাথেডিন ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে সেখানে কালো দাগ রয়েছে। মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।