অর্থনৈতিক সংকট, রাজস্ব ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতির ঘাটতিই এখন প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে।
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পুনর্বিবেচনা করার কথা থাকলেও গত এক দশকে নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে পে স্কেল চালুর উদ্যোগকে অর্থনীতি ও জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করাই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এই খাতে মোট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন এবং এর আনুসাঙ্গিক ব্যয় মেটাতে সরকারকে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা জোগাড় করতে হবে। বর্তমানের দুর্বল রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতিতে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ সংস্থান করা বেশ কঠিন, যা ঘাটতি বাজেটের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এদিকে আইএমএফ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, একযোগে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ তৈরি করবে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। একই সঙ্গে প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় না বাড়লে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
এই বহুমুখী সংকট এড়াতে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো খতিয়ে দেখছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হলেও বর্ধিত বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হবে। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি তাদের বকেয়া পাওনাও একসঙ্গে হাতে পাবেন।

