পদত্যাগের পথে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগির তার পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ওই সূত্রটি জানায়, বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে আর কোনো সংশয় নেই। সরকার ও সরকারি দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসার কথা রয়েছে, যেখানে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।

যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি নিজে তার অধস্তন কর্মীদের বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রাম নেবেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি বলেছিলেন যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। সেই সময় তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে অপমানিত বোধ করার কথাও জানিয়েছিলেন। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলটির মনোনীত ব্যক্তিই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।