চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পুর বিরুদ্ধে থাকা 'শোন অ্যারেস্ট' প্রত্যাহার করে তাকে কারামুক্তির নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত। হাইকোর্টের একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের প্রেক্ষিতে ইসমাইলের আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালত এই আদেশ দেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টেম্পু ইসমাইলের কারামুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট পিটিশন নম্বর ৭৯৪৮/২০২৬-এর শুনানি শেষে একটি রুল জারি করেছিলেন। ওই আদেশে আদালত স্পষ্ট করেছিল যে, ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা বা আইনি ভিত্তি না থাকলে তাকে হয়রানি করা যাবে না এবং বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়।
আইনজীবী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, হাইকোর্টের ওই অন্তর্বর্তী আদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায়ও ইসমাইলকে একটি মামলায় 'শোন অ্যারেস্ট' দেখানো হয়, যা আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করেন এবং একই সঙ্গে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে 'শোন অ্যারেস্ট' প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো আবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল যে, হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন না হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে।
পুলিশের নথিপত্র অনুযায়ী, ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পুর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ ৩০টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল জানান, পুলিশ তাকে ১৩ বারের বেশি গ্রেপ্তার করলেও আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন নিয়ে তিনি বারবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৪ সালে চান্দগাঁও থানায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় টেম্পু ইসমাইল গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলেও পুলিশের তথ্য থেকে জানা যায়।

