জাতিসংঘে ফ্রান্সের সমালোচনার মুখে মার্কিন কূটনীতিকদের ওয়াকআউট

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ফ্রান্সের প্রতিনিধিদের বক্তব্যের সময় মার্কিন কূটনীতিকরা ওয়াকআউট করেছেন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সংক্রান্ত ওই বৈঠকে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ডনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের পুনর্নিয়োগের বিরোধিতা নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি তুর্কের পুনর্নিয়োগের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ফরাসি মিশন তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করে যে, যুক্তরাষ্ট্র একসময় মানবাধিকারের প্রতীক হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তারা আরও দাবি করে, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও নিকারাগুয়ার মতো দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বমঞ্চে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফ্রান্সের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে একে হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ড্যান নেগ্রিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ফ্রান্স তাদের এই অপমানজনক বক্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো রাজনৈতিক ভাষণ শুনবে না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট সরাসরি ওয়াকআউটের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষার আদর্শ নিয়েই ফ্রান্স জাতিসংঘের কর্মকাণ্ডে কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে, সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ৮০টিরও বেশি দেশের ওপর ১০ থেকে সাড়ে ১২ ভাগ শুল্ক আরোপ করেছে, যার কারণ হিসেবে জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগকে সামনে আনা হয়েছে। বৃটেনের পাশাপাশি কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো মিত্র দেশগুলোও এই নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, নিজের অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের জন্য ট্রাম্প মানবাধিকারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে কেবল অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন।