নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১১ দিন পরও নিখোঁজ ৫ হাজার, শুরু ডিএনএ পরীক্ষা

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া অনেক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় নিখোঁজদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নেপাল পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ তথ্য জানিয়েছে।

নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শনিবারও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা তৎপর ছিলেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৯৮টি মরদেহ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অনেক মরদেহ পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া বাকি মরদেহগুলো পানি ও কাদায় আটকে থাকায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, পচে গেছে অথবা খণ্ডিত অবস্থায় রয়েছে। নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে অন্তত ৮৫টি শিশুর এবং প্রায় ৫০০ মরদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনুপস্থিত থাকায় সেগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়, যার সংখ্যা ৩৬২টি। এর পরের অবস্থানে রয়েছে নাওয়ালপরাসি ইস্ট, নাওয়ালপরাসি ওয়েস্ট, নুওয়াকোট, রাসুওয়া, গোরখা, ধাদিং ও তানাহুন জেলা। অজ্ঞাত মরদেহ ও মানবদেহের অংশ শনাক্ত করার লক্ষ্যে পুলিশ নিখোঁজদের স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তারা জানান, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি অজ্ঞাত মরদেহ দাফন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

এদিকে রবিবার সকালে গোরখা জেলায় নতুন করে বন্যায় চারটি বাড়ি ও একটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চুমনুব্রি রুরাল মিউনিসিপ্যালিটির ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নামরুং খোলা নদীর পানি উপচে এই নতুন বন্যার সৃষ্টি হলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। নেপালের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমসিলিনা জানিয়েছেন, রাসুওয়ায় বন্যাকবলিতদের ত্রাণসামগ্রীর কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না এবং ত্রাণ বিতরণে যেকোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।