ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়া প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল আর অফিশিয়ালি ‘এইচআরএইচ’ (হিজ/হার রয়্যাল হাইনেস) উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন না। সম্প্রতি এই দম্পতি যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর তাদের রাজকীয় মর্যাদা ঠিক কী হবে, তা নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়েছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। সোমবার রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড চেম্বারলেনের কার্যালয় থেকে জারি করা এক চিঠিতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, হ্যারি ও মেগানকে আর রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে এই দম্পতির সরে দাঁড়ানোর বিষয়টির উল্লেখ করে সেখানে বলা হয়, তারা আর অফিশিয়ালি রাজকীয় উপাধি ব্যবহারের যোগ্য নন। হ্যারি ও মেগান তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে নিয়ে দীর্ঘ ছয় বছর পর গত আগস্টে যুক্তরাজ্যে ফিরে পুনরায় বসবাস শুরু করেন। এরপরই তাদের অবস্থান নিয়ে নানা মহলে নির্দেশনা চাওয়া হচ্ছিল। এই বিষয়ে যেন কোনো ধরনের ‘সন্দেহ বা বিভ্রান্তি’ না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই রাজপরিবার থেকে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কিংবা তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই হ্যারি ও মেগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকস্মিকভাবে রাজপরিবারের ‘সিনিয়র’ সদস্যের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎকালীন রানি এলিজাবেথ একটি পারিবারিক জরুরি বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, হ্যারি ও মেগান দম্পতি আর রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না এবং সরকারি কোনো অনুদানও পাবেন না। মূলত স্বাধীন জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে তারা রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

