কম দামে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা: চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কম দামে ইলিশ মাছসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। নড়াইলের কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ফুরকান ওরফে ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া ওরফে চান্দু শেখ (২৫), রাতুল হোসেন নবেল (২৫) এবং শহিদুল শেখ (২৩)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৭ সেপ্টেম্বর তাদের চাঁদপুরে আনা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার নম্বর যথাক্রমে ১১১ (২১ আগস্ট ২০২৬) এবং ০৫ (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬)।

অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, দুটি ভারতীয় সিমসহ মোট ৪৬টি সিম কার্ড এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, জুতা, কলম ও বেবি টয়ের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি তৈরি করত। এরপর সেগুলো বুস্ট করে চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।

ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের জন্য চক্রটি অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিত। তারা নাহিদ, জাবেদ, সনি মিয়া, হাজী আব্দুল কাদের ও সাকিবের মতো ছদ্মনাম ব্যবহার করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জাল ট্রেড লাইসেন্স ও নকল ভাউচার প্রদর্শন করত। ক্রেতাদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর পণ্য সরবরাহ না করে তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত।

চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত মোট ছয়জনকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর এসআই মো. আনছার উল্লাহ, এসআই মো. জিয়াউল হক জিয়া, এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও এএসআই মো. জহির উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল নড়াইলে এই অভিযান পরিচালনা করে।