তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মী নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০-৫০ নম্বর রাখার উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, এই ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর কোটার পরিবর্তে মেধাভিত্তিক সংসদ গঠিত হয়েছে, যা সবার জানা। কিন্তু বর্তমানে নিয়োগবিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত শঙ্কার বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, এর ফলে মেধার পরিবর্তে কোটার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার প্রক্রিয়ার দিকে বর্তমান ব্যবস্থাপনা ধাবিত হচ্ছে।
প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় প্রক্সি পরীক্ষা বা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি দেখিয়ে এই নম্বর বিভাজনের প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে। তবে শফিকুল ইসলাম মাসুদ মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তার ভাষ্যমতে, প্রশাসনের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং দলীয় লোক বসানোর পথ এর মাধ্যমে সুগম হবে।
তিনি বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত নম্বর বিভাজনের পার্থক্য তুলে ধরে জানান, ১১ থেকে ১২তম গ্রেডে আগে ১০ থেকে ৯০ শতাংশের বিভাজন থাকলেও এখন তা ৫০-৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে আগে ১০ থেকে ৯০ শতাংশের বিভাজন পরিবর্তন করে ৪০ ও ৬০ শতাংশ এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১০ থেকে ৪০ শতাংশের বিভাজন পরিবর্তন করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিলম্বে কোটার পরিবর্তে মেধার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এ বিষয়ে রুলিং দেন। স্পিকার জানান, পয়েন্ট অব অর্ডারে কোনো সদস্য সংসদের চলমান বিষয়ের ওপর বক্তব্য দিতে পারেন, কিন্তু নিয়োগবিধি নিয়ে এখন কোনো আলোচনা না থাকায় এটি পয়েন্ট অব অর্ডারের অন্তর্ভুক্ত নয়।

