ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা: জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত

ইতালির মেস্ত্রে শহরের একটি পার্কে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে ঘুরতে গেলে একদল ব্যক্তি তাঁকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করেন। ঘটনার সময় হামলাকারীরা তাঁকে ঘিরে ধরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে এবং গালিগালাজ করে। বাঁধনের ওপর ডিম ও কোক ছোড়া হয় এবং তাঁর মুঠোফোনটি কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলা হয়। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন নিজেই এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ প্রচার করেন মনিরুল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি। মনিরুল মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা এবং তিনি ছাত্রলীগের ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশ ছেড়ে প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে পাড়ি জমান। লাইভ ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে হামলার দায় স্বীকার করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, শরীয়তপুরের বাসিন্দা শিপল মাহমুদ বিপ্লব বারবার বাঁধনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে পানি ছুড়ে মারছেন। বিপ্লব বর্তমানে ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

হামলার ভিডিওতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়াকেও বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে চড় মারার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এতে অভিনেত্রীর হাতে আঘাত লাগে এবং তাঁর মুঠোফোনটি হাত থেকে পড়ে যায়। ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে ইলিয়াসের উপস্থিতির একাধিক প্রমাণও পাওয়া গেছে। এছাড়া শরীয়তপুরের বাসিন্দা আলতাফ পাহাড়কে ঘটনার সময় সামনের সারিতে থেকে বাঁধনকে শাসাতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রমতে, আলতাফ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে ভেনিসে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ভিডিওতে তাঁকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা গেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে।