রাঙ্গামাটি থেকে ইউপিডিএফের মাসিক ২০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটি জেলা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ করেছেন রাঙ্গামাটি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক। মঙ্গলবার বিকেলে রাঙ্গামাটি মারী স্টেডিয়ামে ‘রাঙ্গামাটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ইউপিডিএফ পাহাড়ের মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বললেও সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ইউপিডিএফকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, চাঁদাবাজিই সংগঠনটির মূল কর্মকাণ্ড। তিনি পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ইউপিডিএফের কোনো দৃশ্যমান ত্রাণ তৎপরতা না থাকায় সংগঠনটির কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা ও বিভিন্ন দুর্যোগে পাহাড়ের বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁদের সহায়তায় ইউপিডিএফের উল্লেখযোগ্য কোনো ত্রাণ কার্যক্রম দেখা যায়নি। এ অবস্থায় সংগঠনটি কাদের জন্য আন্দোলন করছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ইউপিডিএফের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ‘জনগণকে বিরক্ত করবেন না। সেনাবাহিনীকে আপনাদের প্রতিহত করতে হবে না। পাহাড়ের জনগণই আপনাদের প্রতিহত করা শুরু করেছে এবং তারাই আপনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’

সেনাবাহিনীর কার্যক্রম শুধু নিরাপত্তা ও খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কল্যাণে সেনাবাহিনী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, প্যারামেডিক প্রশিক্ষণ, নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ, চোখের ছানি অপারেশন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক দুর্যোগের সময় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে সেনাবাহিনী পাশে ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, দলীয় সমন্বয় ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাঙ্গামাটি থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ‘খেলার মাঠে প্রতিযোগিতা, মাঠের বাইরে সম্প্রীতি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়রা অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, জেলা প্রশাসক মিজ্ নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।