সাদেকা হালিমসহ ঢাবির ৩ শিক্ষক ও ১ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরও চারজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিন্ডিকেটের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষে ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দেওয়া অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও সাময়িক বরখাস্তের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে প্রধান প্রকৌশলী কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফা পিইঞ্জকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।

সিন্ডিকেট সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকে (রফিক শাহরিয়ার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত 'হেকেপ' প্রকল্পের আওতাধীন গবেষণা কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং অর্থ ব্যবহারের সঠিকতা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট, যা পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে কার্যকর করা হবে। একই সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে 'জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ' নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট এই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।