বৃষ্টি ও বন্যার দোহাই দিয়ে বাজারে নিত্যপণ্যের দামের কারসাজি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বাজারে সরবরাহে দৃশ্যমান কোনো সংকট না থাকা সত্ত্বেও পণ্যের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের যেসব অঞ্চলে বন্যার কোনো প্রভাব পড়েনি, সেখান থেকেও কৃষিপণ্য নিয়মিত বাজারে আসছে। তবুও অসাধু চক্রের কারসাজিতে গত দুই সপ্তাহে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৩০০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও ৪০ টাকা থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ৭০ টাকায় ঠেকেছে।

শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ১৩৫-১৪০ টাকা ছিল এবং দুই সপ্তাহ আগে ১২০-১৩০ টাকার মধ্যে ছিল। সবজির বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে; অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ১২০-১৫০ টাকা এবং গোল বেগুন ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ধুন্দল ও পটলের দামে, যা ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা ১২০-১৪০ টাকা, কচুরমুখি ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১১০-১৩০ টাকা এবং চিচিঙা ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ৩০-৩৫ টাকা কম ছিল।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০-১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বন্যা ও বৃষ্টির কারণে দাম বাড়া স্বাভাবিক হলেও বর্তমান পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। তিনি অভিযোগ করেন, বাজারে এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের শাসন চলছে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই অসাধু চক্র এমন ছক তৈরি করেছে। বাজার তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার থাকায় সাধারণ ভোক্তা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এদিকে মাছের বাজারেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। দুই সপ্তাহ আগে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৫০-৩৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার তা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তেলাপিয়া ২৪০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাকে ১৬০০-১৮০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, ভোজ্যতেলের দাম আবারও বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। গত ১১ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে ২৯ এপ্রিল সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাবে পাম ওয়েলের দামও লিটারে ১৭ টাকা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার ছুটির দিন রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। যা চারদিন আগে বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। তবে এই মরিচ দুই সপ্তাহ আগে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। যা শুক্রবার ৫৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তিন দিন আগে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকা। বাজারে প্রতিকেজি লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকা কেজি। গোল বেগুন সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা কেজি। তবে ধুন্দল ও পটলের দাম ১০০ টাকা থেকে কমে ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি করলা ১২০-১৪০ টাকা, কচুরমুখি ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১১০-১৩০ টাকা এবং চিচিঙা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগেও এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ৩০-৩৫ টাকা কম ছিল।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল। সে সময় এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৭৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৬ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি লিটার পাম ওয়েলের দাম লিটারে ১৭ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা।