টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার

গাজীপুরের টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের মাদক সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। বুধবার (৫ আগস্ট) ভোররাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত চলা এই ঝটিকা অভিযানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশ নেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।

দীর্ঘদিন ধরেই হাজী মাজার বস্তির বিভিন্ন কক্ষে মাদকের রমরমা কারবার চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুরো বস্তি এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ শত শত কক্ষে একযোগে তল্লাশি চালায়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানকালে পুলিশ বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা উদ্ধার করেছে, যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য মাদক কারবারিরা এসব ক্যামেরা ব্যবহার করত, যাতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আগে থেকেই সতর্ক হতে পারে। এই সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্য অপরাধীদের শনাক্ত করতে বর্তমানে পুলিশের তদন্ত চলছে।

গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযান শেষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, হাজী মাজার বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই মাদক চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধারকৃত আলামতের সূত্র ধরে চক্রের বাকি মূলহোতাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় থাকবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।