জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাইযোদ্ধাদের’ মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই রাষ্ট্রীয়ভাবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। শহীদ পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনে আহতদের পাশে বর্তমান সরকার সব সময় থাকবে।
বুধবার সকাল ৯টায় রাজশাহী মহানগরীর সিএন্ডবি মোড়ে নবনির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদদের মহান আত্মত্যাগ এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অদম্য লড়াইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এই সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের সার্বিক কল্যাণে একটি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
শহীদ পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যে বৈষম্যহীন, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শহীদ শাকিব আঞ্জুমের বাবা আবেগঘন কণ্ঠে তাঁর সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। যারা আমার সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
এর আগে ভূমিমন্ত্রী জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম ড. বজলুর রশিদ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।
এদিকে সকাল থেকেই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢল নামে। হাজারো মানুষ ফুল দিয়ে আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্মৃতিস্তম্ভ ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৫৯আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ০৯

