রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওমর ফারুক নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ওমর ফারুক পেশায় একজন গ্রাম্য চিকিৎসক এবং জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ‘রোকন’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার নিজ বাড়িতে একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ২২ দিন আগে শিশুটি নিয়মিত পড়াশোনার জন্য ফারুকের বাড়িতে যায়। পড়া শেষে অন্য শিক্ষার্থীরা চলে গেলে শিশুটিকে একা পেয়ে ফারুক তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বাড়ি ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরিবারের দাবি, বিষয়টি জানার পর শিশুটির মা ওমর ফারুকের বাবার সঙ্গে কথা বললে তাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
তবে ওমর ফারুক অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শিশুটি তার স্ত্রীর কাছে পড়তে আসত এবং ঘটনার দিন স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় তিনি শিশুটিকে পড়িয়েছেন, কিন্তু কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ করা হয়নি। ফারুকের পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন জানান, ওমর ফারুক তাদের সংগঠনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন। বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন এবং তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

