সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা একই প্রশ্নে নেওয়ার উদ্যোগ এবং প্রশ্নপত্র তৈরির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্ট সরকারি পরিপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সুযোগ না দিয়ে উপজেলার সব বিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অথচ গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত পরিপত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রতিটি বিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে অথবা পার্শ্ববর্তী একাধিক বিদ্যালয়ের সাথে মিলে প্রশ্নপত্র তৈরি করবে। উপজেলার সব বিদ্যালয় একসাথে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো নির্দেশনা ওই পরিপত্রে নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক জানান, গত জুলাই মাসে শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় শিক্ষকরা পরিপত্র অনুযায়ী নিজ ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন তৈরির প্রস্তাব দিলেও তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। শিক্ষকদের আশঙ্কা, এর ফলে প্রশ্ন প্রণয়নে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ কমে যেতে পারে। এছাড়া, পরীক্ষার পাঁচ দিন আগেই প্রশ্নপত্র বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা পরীক্ষার গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করছে।

অর্থ আদায়ের বিষয়ে শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির তিনটি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ৬ টাকা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৬টি পরীক্ষার জন্য ১৬ টাকা করে ফি নেওয়া হচ্ছে। ২০১টি বিদ্যালয় থেকে সংগৃহীত এই বিপুল অর্থের একটি অংশ ছাপানোর কাজে ব্যয় হলেও বাকি অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন, শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মিটিং করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিপত্রে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। তবে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন।