পিএইচডি-এমফিলে সুযোগ পাচ্ছেন না আত্তীকৃত কলেজের শত শত শিক্ষক

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আত্তীকৃত সরকারি কলেজের শত শত শিক্ষক। চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়ায় তারা পিএইচডি বা এমফিল কোর্সে ভর্তি হলেও শিক্ষা ছুটি পাচ্ছেন না। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করা হলেও শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়াটি এখনো সম্পন্ন হয়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শাহজালাল উদ্দীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ক্যান্সার গবেষণায় এমফিল কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, কলেজ বেসরকারি থাকাকালীন শিক্ষা ছুটির আবেদন করলেও চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়ার কারণে তা মঞ্জুর হয়নি। একই পরিস্থিতির শিকার রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। তিনি পিএইচডি করতে আগ্রহী হলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রতিষ্ঠান প্রধান বারবার পরিবর্তনের কারণে বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) জমা দিতে না পারায় আবেদনই করতে পারছেন না।

বগুড়ার সরকারি কমরউদ্দিন ইসলামিয়া কলেজের প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিলের জন্য মনোনীত হয়েছেন। একাডেমিক শর্ত অনুযায়ী তাকে এক বছরের শিক্ষা ছুটি নিতে হবে, কিন্তু স্থায়ীকরণ না হওয়ায় তিনি অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক শিক্ষক মন্ত্রণালয় ও মাউশির দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। একজন ভুক্তভোগী শিক্ষক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি'র সুযোগ পেলেও দুই সপ্তাহের মধ্যে চিঠি মঞ্জুর না হলে তা হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সহকারী পরিচালক (কলেজ-২) ফজলুল হক মনি বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী চাকরি স্থায়ীকরণ ছাড়া শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর করা নিয়মের পরিপন্থি। মাউশির উপ-পরিচালক (কলেজ-১) মো. নুরুল হক সিকদার জানান, এসিআর সংক্রান্ত জটিলতা ও কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অসহযোগিতার কারণে শিক্ষকদের স্থায়ী করা যাচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকের এসিআর একসঙ্গে পাঠাতে হয়, যা অনেক সময় সম্ভব হয় না। এছাড়া মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপন বা ভুল তথ্যের কারণেও স্থায়ীকরণের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মাউশি থেকে ফাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর তা পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (কলেজ) কাজী নূরুল ইসলাম জানান, স্থায়ীকরণের কাজ চলমান রয়েছে এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই তা করা হচ্ছে। তবে স্থায়ীকরণ না হওয়ায় শিক্ষকরা পিএইচডি-এমফিলের পাশাপাশি অবসরকালীন সুবিধাপ্রাপ্তিতেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে মন্ত্রণালয় অবগত আছে।

ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী মো. শাহজালাল উদ্দীন। তিনি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রভাষক (নন-ক্যাডার) হিসেবে কর্মরত। ২০২২-২৩ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি ডিপার্টমেন্টে ক্যান্সার গবেষক হিসেবে এমফিল কোর্সে ভর্তি হন। এই কলেজটি