ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়াল

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ৪১ দিন পর দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ১২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের বা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে শেয়ার করা একটি পোস্টে তিনি জানান, ভূমিকম্পের পর প্রায় ৬১ হাজার মানুষকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারিভাবে সঠিক সংখ্যা প্রকাশ না করা হলেও প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নিখোঁজের এই সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হতে পারে। গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ১৯০০ সালের পর দেশটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প, যাতে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জোড়া ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার সরকারের সর্বশেষ তথ্যমতে, প্রায় ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ১৬ হাজার ২০০টিরও বেশি স্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ভূমিকম্পের ৪১ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬.৫ শতাংশ ধ্বংসস্তূপ সরানো সম্ভব হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এদিকে এখনো প্রায় ২৪ হাজার গৃহহীন মানুষ অস্থায়ী তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। উপচে পড়া এসব ক্যাম্পে পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশনের অভাব দেখা দেওয়ায় মানবিক সংকট তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গত শুক্রবার দেশটির জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে একটি নতুন ভাড়া আইন পাস করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই পদক্ষেপকে ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিক উভয়ের জন্যই লাভজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই আইনের মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ পরিবার উপকৃত হবে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ ক্ষতিগ্রস্তদের ৪ হাজার বাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।