দুই বছর আগে সংঘটিত ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিনটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট একটি আনন্দের ও বিজয়ের দিন। এই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ রাহুমুক্ত হয়।
তারেক রহমান বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। গুম, খুন, অপহরণ ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও আপসহীন নেতৃত্বের কারণে বছরের পর বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে। এছাড়া ‘আয়নাঘরের’ মতো গোপন বন্দিশালায় অগণিত মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো নেতাদের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। অনিয়ম ও লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত ধ্বংস করে ব্যক্তিতন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাকশ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাঁকর্মী, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গৃহবধূ, নারী ও শিশুসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসেন। স্বৈরাচারী সরকার এই আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে শিশুসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে।
আন্দোলনের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ মুগ্ধর মতো সাহসী সন্তানেরা গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। জুলাই-আগস্টের এই আন্দোলনে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ শরীরের অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অথবা চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে, সংসদ সদস্য, প্রধান বিচারপতি, প্রধান খতিব ও মন্ত্রীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এটি বিশ্বের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী এবং এই ঋণ পরিশোধের পালা এখন। বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার বা উগ্রবাদ কায়েম হতে দেওয়া হবে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন এবং ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ—উভয়কেই জাতি সমান গুরুত্বের সাথে স্মরণ রাখবে।

