মোদির ২৪ বছরের ভাবমূর্তি দুই সপ্তাহে ধূলিসাৎ: অরুন্ধতী রায়

ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও বুকার পুরস্কারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায় দাবি করেছেন, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলন মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা জনভাবমূর্তিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে (আইআইসি) তার বই 'মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার'-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক অভিঘাত যেকোনো নির্বাচনি জয়ের চেয়েও বড়।

অরুন্ধতী রায় আরও বলেন, রাজনীতিতে শুধু নির্বাচনই সবকিছু নয়; কখনও কখনও জনতার আন্দোলন বহু বছর ধরে নির্মিত রাজনৈতিক বয়ান ও ভাবমূর্তিকে অল্প সময়ের মধ্যেই নড়িয়ে দিতে পারে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ২৪ বছরে যে ভাবমূর্তি গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে কেউ কেউ তাকে বিষ্ণুর অবতার বলেও আখ্যা দিয়েছেন, সেই ভাবমূর্তি মাত্র দুই সপ্তাহে ভেঙে দিয়েছে ককরোচরা। তার মতে, এটি নির্বাচনি জয়ের চেয়েও বড় এক বিজয়।

তবে আন্দোলনের এই সাফল্যে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেন অরুন্ধতী রায়। তিনি বলেন, সরকারের হাতে যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে, তবে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর জন্য সামনে আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এ সময় তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানান। এছাড়া জন্তর মন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের পরিপক্বতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। একটি সংগীত দলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজস্ব ভূমিকা পালন করেই অভিন্ন লক্ষ্যে অবদান রাখে, যা এখন প্রাপ্তবয়স্কদেরও দেখাতে হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি তার নতুন বই 'মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার' নিয়েও কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি তার বা তার মা মেরি রায়ের আত্মজীবনী নয়, বরং মা ও মেয়ের জটিল সম্পর্কের কাহিনি। বইয়ে মাকে 'গ্যাংস্টার' হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন বলে জানান তিনি। এছাড়া ব্যক্তিগত সম্মাননা বা পুরস্কার পাওয়ার সময় তার মনে হয় কোথাও কেউ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা গাজা থেকে শুরু করে প্রান্তিক গ্রাম কিংবা জন্তর মন্তরের আন্দোলনেও বিদ্যমান। শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্যায়কে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার সময় শেষ এবং নাগরিকদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তারা আর নির্যাতন মেনে নেবে না।