বিজেপির ৩৫ বছরের দুর্গ ভেঙে জয়ী প্রশান্ত কিশোর

দীর্ঘদিন অন্যদের নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণের পর এবার নিজেই ভোটের মাঠে নেমে বাজিমাত করলেন ভারতের খ্যাতনামা নির্বাচনি কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর। বিহারের দীর্ঘদিনের বিজেপি দুর্গ হিসেবে পরিচিত ব্যাংকিপুর বিধানসভা আসনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো বিধায়ক (এমএলএ) নির্বাচিত হয়েছেন জন সুরাজ পার্টির (জেএসপি) প্রতিষ্ঠাতা এই নেতা।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ১৫১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৮২৭ ভোট। ফলে ১৯ হাজার ৩২৪ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রার্থী রেখা কুমারী ১৪ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

এই জয়ের মাধ্যমে প্রায় তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে থাকা ব্যাংকিপুর আসনে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস তৈরি হলো। আসনটি দীর্ঘদিন বিজেপির প্রভাবশালী নেতা নীতিন নবীনের দখলে ছিল। পরে তিনি রাজ্যসভার সদস্য হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। দিল্লির যন্তর-মন্তরে সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভের পর এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় তরুণ ভোটারদের মনোভাব বিশেষভাবে আলোচনায় ছিল। তরুণ ভোটারের আধিক্য এবং একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় ব্যাংকিপুরকে ‘জেন-জি’ ভোটারদের পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবেও দেখছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। যদিও নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতা নীতিন নবীন দাবি করেছিলেন, তরুণদের সমর্থন এখনও তাদের পক্ষেই রয়েছে।

জয়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশান্ত কিশোর বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই ব্যাংকিপুরের দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবেন মানুষ। তিনি বলেন, শুধু ব্যাংকিপুর নয়, পুরো বিহারের মানুষের জন্যই আমার দরজা খোলা। আমি কোনো অসাধারণ কাজ করিনি, কিন্তু মাত্র ৩০ দিনে বিজেপির ৩০ বছরের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে দিয়েছি। প্রশান্ত কিশোর দাবি করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিহারের মানুষ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রশান্ত কিশোরকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে ব্যাংকিপুর উপনির্বাচনে জনগণ জন সুরাজকে বেছে নিয়েছে। জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে প্রশান্ত কিশোরকে আন্তরিক অভিনন্দন।