শিল্প বাঁচাতে আইএসও পদ্ধতিতে মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির সিদ্ধান্ত

দেশের শিল্প কারখানাগুলোকে ভয়াবহ গ্যাস সংকট থেকে রক্ষা করতে সরকার মালয়েশিয়া থেকে ক্রায়োজেনিক লরি ট্যাংকার বা আইএসও পদ্ধতিতে গ্যাস আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় মাস সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। গত সপ্তাহে জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সহায়তা চেয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে মালয়েশীয় কোম্পানি পেট্রোনাসের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে এবং আইএসও পদ্ধতিতে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দেয়। যদিও শুরুতে মূল্য বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই গ্যাস গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শিল্পায়নের পথে গ্যাস সংকটকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, টাকা জমা দিয়েও প্রায় ৫৫০টি শিল্প-কারখানা নতুন সংযোগ পাচ্ছে না এবং বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির কাছে মোট ১৮৫৭টি শিল্প-কারখানার গ্যাসের আবেদন ঝুলে আছে। বৈঠকের পর বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের আলোচনায় পেট্রোনাসের কাছ থেকে গ্যাস আমদানির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়।

তবে এই পদ্ধতিতে গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর উচ্চমূল্য। বর্তমানে সরকার শিল্প গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট গ্যাস ৩১ টাকায় সরবরাহ করছে, কিন্তু পেট্রোনাসের গ্যাস চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছাতেই প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ১০০ টাকা। এর ওপর গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাতে আরও পরিবহন খরচ যুক্ত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট সমাধানে মালয়েশিয়া ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইএসও পদ্ধতিটি বাংলাদেশের জন্য নতুন। পেট্রোনাসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ ফিট এবং ৪০ ফিটের ট্যাংক জাহাজে করে এলএনজি চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হবে, যার প্রতিটিতে যথাক্রমে ৯ টন ও ১৮ টন গ্যাস থাকবে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৬০০টি ট্যাংক থাকবে এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লরির মাধ্যমে তা পাইপলাইন বা কারখানায় নেওয়া হবে। এর জন্য ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব রিজার্ভ ট্যাংক ও রিগ্যাসিফিকেশন স্থাপনা বসাতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর দেশে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫১ কোটি ঘনফুটেরও বেশি গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। স্বাভাবিক সময়ে ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা ২১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। শিল্প খাতের চাহিদা মেটাতে হলে দৈনিক অতিরিক্ত ৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন। এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির উচ্চমূল্যের কারণে পেট্রোবাংলাকে বর্তমানে প্রতি ইউনিট ৬৬ টাকায় এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে, যা পেট্রোনাসের প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়ে কিছুটা কম হলেও দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।