সরকার বদলালেও বদলায় না মাদক সিন্ডিকেটের অশুভ চক্র

দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও মাদক সিন্ডিকেটের অশুভ চরিত্র বদলায়নি। অতীতে মাদক বা ইয়াবার কথা শুনলে সবার আগে আবদুর রহমান বদির নাম সামনে আসত। যদিও তাকে এখনো ধরা সম্ভব হয়নি, তবে তার মতো আরও অনেকেই এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন। বদিরা কারাগারে থাকলেও মাদকের রুট বা সাপ্লাই চেইন আগের মতোই অক্ষত রয়েছে। সীমান্ত ও বিমানবন্দর দিয়ে মাদক আসার পথগুলো এখনো সক্রিয়, এবং সিন্ডিকেটের হাত ঘুরে তা পৌঁছে যাচ্ছে গ্রাহকের কাছে।

প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত পর্দার আড়ালেই থেকে যান। তাদের নির্দেশে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো রাজনৈতিক কর্মীদের জেলে পাঠানো হলেও, কিছুদিন পর তারা বেরিয়ে এসে পুনরায় একই পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এটি যেন এক পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি। দ্রুত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার লোভই জাতির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে রাজনীতিকে ব্যবহার করা হচ্ছে কেবল একটি সাইনবোর্ড হিসেবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইনও সারা দেশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন।

সাম্প্রতিক অভিযানে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিবি লালবাগ বিভাগ ৫১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির পাড়গেন্ডারিয়া ইউনিটের সভাপতি রিপন মিয়া ও তার সহযোগী ফারুককে ৩৫০০ পাতা হেরোইনসহ গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও ৬ জুন পল্লবী থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. ফাইয়াজ ওরফে মুন্নাকে এক হাজার ইয়াবাসহ এবং ২৫ জুন লালমনিরহাটের আদিতমারীর ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি খোকন মিয়াকে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ আটক করা হয়েছে। নোয়াখালীর চাটখিলে ববিতা আকতার সুমাইয়া নামক এক মাদক কারবারিকে যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করেছে, যিনি ঝুপড়ি ঘরের ভেতরে এসি ও সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসা চালাতেন।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আগের ক্ষমতাসীন দলের ছায়ায় থাকা মাদক কারবারিরা গা ঢাকা দিলেও, তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বর্তমান রাজনৈতিক দলের সদস্যরা। রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল কুড়াতলী এলাকায় সেলিনা নামক এক নারী নিজেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ দাবি করে মাদক কারবার চালাচ্ছেন। কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে আসা মাদকের বড় বড় চালান রাজনৈতিক ব্যানার বা স্টিকারযুক্ত পরিবহণ ব্যবহারের মাধ্যমে রাজধানীতে প্রবেশ করছে। পুরোনো গডফাদাররা পালিয়ে গেলেও তাদের ডেলিভারি বয়, স্পট পাহারা দেওয়ার লোক এবং বিক্রেতারা আগের মতোই বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কেবল রাতের আঁধারে চাঁদার টাকা বা আশ্রয়দাতাদের মুখগুলো বদলেছে মাত্র।