নতুন রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’র আত্মপ্রকাশ

‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন আরও একটি রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটির যাত্রা শুরু হয়। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির যোদ্ধারা। অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ উল্লাহ মধুকে সম্পাদক এবং ইকবাল হোসেনকে (সাম্য শাহ) মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিও ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে ২১ জন সংগঠক ও ১৪ জন সদস্য রয়েছেন।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতাকে তারা রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে যে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি, তার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশা দূর করতে এবং জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করাই দলটির লক্ষ্য। দেশের সকল দেশপ্রেমিক নাগরিককে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হলো তারুণ্য এবং মানুষ এখনো তরুণদের দিকেই তাকিয়ে আছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট এখনো কাটেনি এবং বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের আশঙ্কা রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, কিছু পক্ষ বিদ্বেষ ও গালাগালিকে রাজনীতির অংশ করতে চায়, যা তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী করছে। তিনি বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সংগঠকদের তরুণদের এই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বের করে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মোহসিন রশিদ।