বিপিএল থেকে সরে আসতে চায় বিসিবি, নতুন করে ভাবছে বোর্ড

বিপিএল মানেই এখন বিতর্ক, সমালোচনা আর নানামুখী সমস্যা। ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে গত কয়েক বছরে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্টটি দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক খবরের চেয়ে দুর্নামই বেশি বয়ে এনেছে। বর্তমান বিসিবি বোর্ড আর এই ‘দুর্নামের বোঝা’ বহন করতে চাচ্ছে না। বোর্ডের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বেশিরভাগ পরিচালকই এখন বিপিএল থেকে সরে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা মনে করেন, দুর্বল ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং বিসিবির ওপর আর্থিক দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া এই টুর্নামেন্টটি দেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ, স্থানীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়দের পাওনা বকেয়া থাকা, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অপেশাদার আচরণ এবং বোর্ডের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন বিপিএলকে ক্রিকেট বিশ্বে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গত বিপিএলের স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্তে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হলেও সেই প্রতিবেদন এখনো আলোর মুখ দেখেনি। আগের আসরগুলোতে যেসব কারণে সমালোচনা হয়েছে, সেগুলো দূর করার আগ পর্যন্ত বোর্ড আর টুর্নামেন্টটি আয়োজনে আগ্রহী নয়।

ভবিষ্যৎ নিয়ে বিসিবির সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, এবারের বিপিএল স্থগিত রেখে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ভালো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মাধ্যমে নতুনভাবে শুরু করা। এক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে এনসিএল টি-টোয়েন্টি বা অন্য ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তাও রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ‘বিপিএল’ নামটিই পুরোপুরি বাদ দিয়ে নতুন নামে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট শুরু করা, কারণ ব্র্যান্ড হিসেবে বিপিএল তার নেতিবাচক ভাবমূর্তি হারিয়েছে।

বিসিবির এক পরিচালক জানান, অনেক সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিরা ইচ্ছেমতো দামে খেলোয়াড়দের কিনে পরে টাকা পরিশোধ করে না, যার দায় শেষ পর্যন্ত বোর্ডের ওপরই এসে পড়ে। এছাড়া টিভি স্বত্ব থেকে প্রাপ্ত অর্থের বড় অংশই প্রোডাকশন খরচে চলে যায়। তবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা এখনো আশাবাদী। তিনি জানান, ভালো প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ থাকলে টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেষ্টা করা হবে, তবে ব্যর্থ হলে এক মৌসুম বিরতি দেওয়া হতে পারে। আজ বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এই টুর্নামেন্ট চিহ্নিত হয়ে গেছে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট’ হিসেবেও।বিপিএলের ২০২৪ সালের আসরে ওঠা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্তে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারকে প্রধান করে গঠিত কমিটির রিপোর্টেও বেশ কিছু সমস্যা উল্লেখ করে সুপারিশ করা হয়েছে, পরবর্তী আসর আয়োজনের আগে যেন সব সমস্যা দূর

৫ লাখ টাকার খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ টাকায় ডেকে পরে টাকা দেয় না।