পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গত শুক্রবার পদত্যাগ করার পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বঙ্গভবনের এই সর্বোচ্চ আসনে কে বসতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম হলো প্রাজ্ঞ রাজনীতিক ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্বের কারণে দল ও দলের বাইরের অনেকের পছন্দের শীর্ষে তার নাম রয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি বড় অংশ তাকে রাষ্ট্রপতি করার পক্ষে মত দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রের হাল ধরতে পারেন এমন একজন গ্রহণযোগ্য অভিভাবক প্রয়োজন, আর মির্জা ফখরুল সেই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দল পরিচালনা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়তে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তবে এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। বিষয়টি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। এরপর গত শুক্রবার মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার পেছনে তিনটি প্রধান কারণকে যৌক্তিক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রথমত, ফ্যাসিবাদ আমলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় আসাকে কেন্দ্র করে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম। দ্বিতীয়ত, তার রাজনৈতিক ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজ। তৃতীয়ত, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির কোনো অভিযোগ না থাকা। এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।

সার্বিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।