গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেট শাখায় গ্রাহকদের আমানত আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শাখাটির ক্যাশিয়ার ও পিয়নের বিরুদ্ধে ৪৪ জন গ্রাহকের জমা করা প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তরা টাকা ফেরতের জন্য লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন।
গত রোববার বিকেলে এই দুর্নীতির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গ্রাহকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক গ্রাহক তাদের হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় হতবাক হয়ে পড়েছেন। সোমবার সকালে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ব্যাংক শাখায় ভিড় করেন। ভুক্তভোগী ওমর ফারুকসহ অন্যান্যরা জানান, অনেক গ্রাহক তাদের জমার রসিদ দেখাতে পারলেও ব্যাংক হিসাব বিবরণীতে সেই অর্থের কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অর্ধশত গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকার আমানত এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেট ধাপেরহাট শাখার ম্যানেজার অলিউর রহমান জানান, শাখার ক্যাশিয়ার ও পিয়ন মিলে এই দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। গ্রাহকদের টাকা ফেরতের জন্য স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তরা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরতের স্বাক্ষর করেছেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত হিসাব যাচাই শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

